বন্দুক হামলায় আহত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখন সুস্থ হওয়ার পথে। পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাকিস্তানের শওকত খানুম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। এ হামলার প্রতিবাদে শুক্রবারের নামাজের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয় ইমরানের দল পিটিআই। গত বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদে ইসলামাবাদ অভিমুখী লংমার্চে ইমরানকে গুলি করা হয়। ওই ঘটনায় এক পিটিআই কর্মী নিহত হন এবং ইমরানসহ ১০ জন আহত হন। সিন্ধু প্রদেশের সাবেক গভর্নর ইমরান ইসমাইল ও সাবেক মন্ত্রী ফয়সাল জাভেদও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইমরান খানের চিকিৎসক ফয়সাল সুলতান এএফপিকে জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখন ভালোর দিকে। সবকিছুই এখন স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসক সুলতানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে
জানা গেছে, হামলার দিন রাতেই পায়ে অস্ত্রোপচার হয় ইমরান খানের। তাকে আগামী তিন সপ্তাহ হাঁটাচলা করতে নিষেধ করেছেন চিকিৎসকরা। এ সময় সম্পূর্ণ বিশ্রামেই থাকতে বলা হয়েছে সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রীকে। গত ২৮শে অক্টোবর পাকিস্তানে শুরু হয় পিটিআই দলের লংমার্চ। রাজধানী ইসলামাবাদে ৪ই নভেম্বর বড় সমাবেশের কথা ছিল ইমরান খানের। তবে গুলির ঘটনায় সেই কর্মসূচি পিছিয়ে যায়। নতুন করে ১১ই নভেম্বরকে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর দিন ঘোষণা করেছে পিটিআই। এর আগে ইমরান খানকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে পিটিআই। দলের নেতা আসাদ উমার এক টুইট বার্তায় বলেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পিটিআই’র আন্দোলন চলবে। গতকাল জুমার নামাজের পর পাকিস্তানজুড়ে আন্দোলনের ডাক দেন তিনি। নিজের ওপর এ হামলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ও একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন ইমরান খান। হামলার দিনই এক ভিডিও বার্তায় ইমরানের এই সন্দেহের কথা দেশবাসীকে জানিয়েছেন আসাদ উমর। দলের নেতা মিয়া আসলাম ইকবালকে পাশে নিয়ে আসাদ উমর আরও জানান, ইমরান খান তাদের বলেছেন যে- তার কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল, এই লোকগুলো তাকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। ইমরান খান এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ ওই সামরিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নিজের বার্তা দেয়া সম্ভব না হওয়ায় আসাদ উমরের মাধ্যমে এ কথা দেশবাসীকে জানিয়েছে ইমরান। উমর আরও বলেন, পাকিস্তানের জন্য নিজের জীবন কোরবানি দিতে প্রস্তুত আছেন ইমরান খান। এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ থাকার সুযোগ নেই।
তিনি এখন সুস্থ আছেন এবং আমাদেরকে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে বলেছেন। এদিকে পাঞ্জাবের বার কাউন্সিলও গতকাল ইমরান খানকে হত্যা প্রচেষ্টার প্রতিবাদে প্রদেশজুড়ে আদালত বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনজীবীরা গতকাল আদালতে হাজিরা দেবে না। ইমরানের ওপর হামলা স্পষ্টতই বিচার ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা। গত বৃহস্পতিবার ইমরানের ওপর হামলার পর পরই পাকিস্তানজুড়ে পিটিআইয়ের কর্মী ও সমর্থকরা প্রতিবাদে নামে। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে বিভিন্ন শহরে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, যারা বহরের সামনে ছিলেন তারাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ইমরান খানের জ্যেষ্ঠ সহযোগী রাউফ হাসান বলেন, ইমরান খানকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। পিটিআই দলের একাধিক নেতা ইমরান খানের ওপর এই হামলার জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, রাজনীতিতে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। ইমরান খানের ওপর রাজনৈতিক সমাবেশে যে গুলি চলেছে যুক্তরাষ্ট্র তার তীব্র নিন্দা জানায়। আমরা তিনিসহ আহত সকলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। যিনি নিহত হয়েছেন তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এক টুইট বার্তায় ব্লিঙ্কেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ইমরান খান গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায়ই এই টুইট করেন ব্লিঙ্কেন। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং লন্ডনের মেয়র সাদিক খানসহ বেশ কয়েকজন বৃটিশ রাজনীতিবিদ। তারা পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং আহত অন্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর একটি টুইট বার্তায় জেমস ক্লিভারলি বলেন, পাকিস্তানে ইমরান খানের ওপর মর্মান্তিক হামলায় একজন নিহত হয়েছে। যারা হতাহত হয়েছেন তাদের প্রতি আমার সমবেদনা। রাজনীতিতে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এদিকে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও উদ্বেগ জানিয়ে করা এক টুইটে ইমরান খানের সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, এই অত্যন্ত দুঃসময়ে আমার প্রার্থনা ইমরান খান এবং পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। এদিকে ইমরান খানের সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার প্রাক্তন দুই স্ত্রী। এরমধ্যে ইমরানের দুই সন্তানের মা জেমিমা গোল্ডস্মিথ এক টুইট বার্তায় লিখেন, যে খবর আমরা শুনতে ভয় পাই সেটিই ঘটেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া তিনি সুস্থ আছেন। হামলাকারীকে যিনি ধরেছেন, সেই সাহসী ব্যক্তিকে ইমরান খানের দুই ছেলের তরফ থেকে অনেক ধন্যবাদ।












