ইরানে নারী দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি নেই। গত এপ্রিলে এই খবর প্রকাশ পেলে ফুটবল ইতালিয়া জানায়, এমন আইনের কারণে কাতার বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে ইরান ফুটবল দল। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তব রূপ নেয়নি এখনো। সম্প্রতি ইরানি পুলিশ হেফাজতে এক তরুণীর মৃত্যু হলে ফের এই বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে সরব হয়েছে দেশটির এক নারী অধিকার সংগঠন।
ইরানের নারী সংগঠন ‘ওপেন স্টেডিয়ামস’ বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে। বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানকে কাতার বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছে সংগঠনটি। চিঠিতে বলা হয়, ‘ইরানিয়ান এফএ কেবল শাসকগোষ্ঠীর অপরাধের সহযোগী নয়, ইরানের নারী দর্শকদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ; সেটা আমাদের জাতীয় দল বিশ্বের যেখানেই খেলুক না কেন। ফুটবল আমাদের সবার জন্য একটি নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত। তাই আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে ইরানি ফুটবল সমর্থক হিসেবে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে হচ্ছে।’
ফিফাকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওই নারী অধিকার গোষ্ঠী, ‘ফিফা কেন ইরানি রাষ্ট্র ও তার প্রতিনিধিদের বৈশ্বিক মঞ্চে স্থান দেবে, যখন তারা মৌলিক মানবাধিকার ও মর্যাদাকে সম্মান করতে শুধু অস্বীকারই করে না, বর্তমানে নিজেদের জনগণকে নির্যাতন ও হত্যাও করছে।’
চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এই বিষয়ে ফিফার নীতিগুলো কোথায়? তাই আমরা ফিফাকে তার আইনের ৩ ও ৪ অনুচ্ছেদের ওপর ভিত্তি করে অবিলম্বে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে বহিষ্কার করার দাবি জানাই।’ ফিফার এই অনুচ্ছেদগুলোতে লিঙ্গ, জাতি, ধর্ম ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মানবাধিকার এবং সমতার বিষয়গুলোর উল্লেখ আছে।
ইরানে নারীদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা অনেক আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। পরে ২০১৯ সালে ফেডারেশন অব ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্তে ফের নারীদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেয় ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তবে কাতার বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার পর আবারও নারীদের নিষিদ্ধ করা হয় স্টেডিয়ামে।












