হাউস অফ লর্ডস’-কে বিলুপ্ত করার এবং একে উচ্চকক্ষের সঙ্গে প্রতিস্থাপন করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারগুলির কাছে নতুন ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা বিবেচনা করছে লেবার পার্টি। যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাংবিধানিক পর্যালোচনার সময় অতিরিক্ত ট্যাক্সেশনসহ নতুন অর্থনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তর করার এবং ইংল্যান্ডের জন্য নতুন স্বাধীন কাউন্সিল তৈরি করার সুপারিশ করেছেন।
গার্ডিয়ান-এর হাতে সেই সুপারিশের কপি এসে পৌঁছেছে যাতে বলা হয়েছে- সরকারের হাতে দেয়া হবে নতুন করের ক্ষমতা, যার মধ্যে স্ট্যাম্প শুল্ক অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংস্থার মাধ্যমে সংসদে বিল পেশ করার জন্য স্থানীয় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকবে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের ওপর সাংবিধানিক গ্যারান্টি দিতে হবে।
শিক্ষা, পরিবহন এবং গবেষণা তহবিল বিষয়ে মেয়রদের হাতে ক্ষমতা থাকবে।
ব্রাউন কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংসদে মানদণ্ডের উপর কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সাধারণ নাগরিকদের একটি জুরি। যারা এমপি এবং মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে রায় দিতে সক্ষম। ব্রাউন বেশিরভাগ এমপিদের জন্য দ্বিতীয় চাকরি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছেন, যা পার্টির নেতা স্যার কির স্টারমার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন। সেইসঙ্গে মন্ত্রীর ক্ষমতা প্রতিস্থাপনের জন্য নতুন আচরণবিধি এবং নির্বাচন কমিশনকে বড় জরিমানা দেয়ার ক্ষমতা প্রদান করেছেন। পর্যালোচনাটি তীব্র অভ্যন্তরীণ বিতর্কের সূত্রপাত করেছে এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। স্টারমার এই বছরের শুরুর দিকে তার লিভারপুলের বক্তৃতায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সংস্কারগুলি স্থানীয় সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি দেবে। সেইসঙ্গে প্রতিটি শহর দেশের অর্থনীতিতে নিজের মতো করে অবদান রাখার সুযোগ পাবে।
হাউস অফ লর্ডসকে সংস্কার করা হবে সংবিধানকে রক্ষা করার এবং সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানোর ক্ষমতাসহ। প্রস্তাবগুলো নিয়ে লেবাররা পর্যালোচনা জারি রেখেছে। ব্রাউনের সুপারিশের কেন্দ্রবিন্দুতে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষার অধিকারসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের সাংবিধানিক গ্যারান্টির কথা বলা আছে।












