পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে ভোগান্তি নিয়ে বাড়িফেরা মানুষগুলো এবার কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। গতকাল সোমবার চারদিনের ছুটি শেষ হয়েছে। আজ থেকে খোলা সরকারি বেসরকারি সব অফিস-আদালত ও ব্যাংক-বীমা, পুঁজিবাজার। ফলে গতকাল রাত থেকেই নাড়ির টানে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে যাওয়া মানুষগুলো কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন বাস ও ট্রেন টার্মিনালে কিছুটা ভিড় থাকলেও রাজধানী একেবারে ফাঁকা। অল্পসংখ্যক গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। ভোগান্তি ছাড়া নির্বিঘ্নেই মানুষ চলাচল করতে পারছে।
জানা গেছে, এবার ঈদে সরকারি-বেসরকারি ছুটি একইদিনে শুরু হওয়ায় ঘরমুখো মানুষের প্রচণ্ড চাপ পড়ে গণপরিবহন ও সড়ক-মহাসড়কে। উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হন উত্তরাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাচঞ্চলের মানুষ। পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই অনেকটা নির্বিঘ্নে বাড়ি যান। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন উত্তরাঞ্চলের মানুষ।
অনেকের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেই কেটে যায় দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা। ওই সড়কে দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ির জট লেগে যায়। দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও। গণপরিবহন সঙ্কটের কারণে অনেকে স্ত্রী-শিশুসন্তান নিয়ে ট্রাকে রওনা হন। প্রচণ্ড রোদ আর যানজটে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহান তারা। এদিকে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে হাজার মানুষ কমলাপুর ও বিমানবন্দর টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে দুর্ভোগ পোহান। ভোগান্তি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়া মানুষগুলো এবার ফিরতে শুরু করেছেন।
আজ রাজধানীর মিরপুর, গাবতলী ও ফার্মগেট ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কম। এসব এলাকার প্রায় সবগুলো মোড়ই ছিল ফাঁকা। কোনো কোনো সড়কে মিনিবাস চলছে, তাও সংখ্যায় কম। তবে, সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে প্রচুর। বেশকিছু গণপরিবহন দেখা গেলেও যাত্রী ছিল কম। তিনদিনের সরকারি ছুটি শেষ হলেও এখনো সবাই অফিসে যোগ দেননি। বাড়তি ছুটি নিয়ে অনেকে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন- স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে লাখো মানুষ ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় বদলে গেছে রাজধানীর চিত্র। ট্রেন, বাসে, লঞ্চে করে ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে এসব মানুষ।
রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী, কল্যাণপুর গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ঢুকছে। তবে ঈদের পর দিনই ঢাকায় আসা মানুষের সংখ্যা খুব একটা বেশি নয়। বেশিরভাগ বাস অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ঢুকছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার বাইরে যাওয়া সিমের হিসাব দিয়ে ৬৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৬ জন মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন জানিয়েছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
এদিকে শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবীরা মানুষ। পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। সন্ধ্যার পর থেকে এই চাপটা বেড়েছে বলে জানান শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ গাজী শওকত হোসেন।
সোমবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, সকাল থেকে রাস্তা তেমন কোন যানবাহনের চাপ ছিল না। তবে বিকেল থেকে এই চাপ বাড়তে শুরু করে। এটি সন্ধ্যার পরে আরোও বেড়া যায়। টোল প্লাজা থেকে নাওডোবা গোলচক্কর পর্যন্ত গাড়ির সারি হয়ে যায়। ধীরে ধীরে তারা টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পাড় হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঈদের পরের সোমবার সকাল থেকে যানবাহনের চাপ ছিল না। বিকেল থেকে পদ্মা সেতু পাড়াপাড়ে যানবাহনের ধীর গতি শুরু হয়। সেটা সন্ধ্যায় দীর্ঘ হয়ে যায়। তবে টোল আদায়ে তেমন কোন সমস্যা নেই। টোল প্রদান করে ই পদ্মা সেতু পাড় হয়ে যাচ্ছে যানবাহন। দীর্ঘ সারিতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেশি।












