শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না

Date:

খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে বিএনপি’র চলমান আন্দোলন দমানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বলেন, বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে  আবার জেলে পাঠানো হবে। তার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, যখন দেশে একটা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে, যখন মানুষ তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে, কথা বলছে, যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকালকে আবার চিনিরও দাম বাড়িয়েছে ১৪ টাকা। জ্বালানি, বিদ্যুৎ সংকট সবমিলিয়ে দেশে একটা যখন চরম অব্যবস্থাপনা এবং চরম অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের হুমকি; এটা তিনি যদি মনে করে থাকেন গণতন্ত্রের আন্দোলনকে ব্যাহত করবে বা দমন করবে, তাহলে তিনি সঠিক জায়গায় বাস করছেন না। মির্জা ফখরুল বলেন, যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, জনগণের এই আন্দোলনকে কেউ দমাতে সক্ষম হবে না। মানুষ তার অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করছে, লড়াই করছে।

এখানে ওই হুমকি দিয়ে কোনো কাজ হবে না। প্রধানমন্ত্রীর উক্তির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তি থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তারা কতো প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং তারা যে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা যে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই ধরনের উক্তি করেছেন তিনি এবং এমন সময় করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাড়াবাড়ির কথা বলেছেন উনি (প্রধানমন্ত্রী)। বাড়াবাড়ি তো করছে রাষ্ট্র, বাড়াবাড়ি করছে আওয়ামী লীগের এই সরকার। তারাই আজকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে এবং তারা পুরোপুরিভাবে আজকে এই বাড়াবাড়ির মাধ্যমে তাদের আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে আমাদের যেটা সাংবিধানিক অধিকার, সমাবেশের অধিকার, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে যে প্রোগ্রামগুলো করছি, সেই প্রোগ্রামগুলোতে তারা বাধা সৃষ্টি করছে, গ্রেপ্তার করছে। বিএনপি’র মহাসচিব বলেন, জনগণ এবার জেগে উঠেছে, জনগণ এই সমস্ত প্রতারণামূলক যে কাজ, তা কিছুতেই হতে দেবে না।

 

যেকোনো ত্যাগের বিনিময়ে তারা এবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে- এটাতে তারা বদ্ধপরিকর। সত্যিকার অর্থেই তারা জনগণের সরকার ও জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করবে একটা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে। সেজন্য প্রথম যে শর্ত আমরা দিয়েছি যে প্রধানমন্ত্রীকে তার সরকারসহ পদত্যাগ করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার জনগণকে ভয় পাচ্ছে, মানুষকে ভয় পাচ্ছে। যেভাবে মানুষ জেগে উঠছে, এখানে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে। আমি বিশ্বাস করি, এখানে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির মধ্যদিয়ে তাদেরকে (আওয়ামী লীগ) সরে যেতে হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে যে সংকটগুলো তৈরি হয়েছে, এটা সম্পূর্ণভাবে তাদের দুর্নীতির কারণে তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে, পদে পদে তারা দুর্নীতি করছে।

আজকেও পত্রিকায় বেরিয়েছে, গত ১০ বছরে কানাডায় যারা মাইগ্রেট করেছেন, তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ হচ্ছেন বাংলাদেশি। এগুলোর প্রমাণ পাবেন যেমন আপনার রেমিট্যান্স কমে গেছে। রেমিট্যান্স কমছে কিন্তু আপনার শ্রমিকের সংখ্যা কিন্তু কমেনি, আবার বেড়েছে। মির্জা ফখরুল প্রশ্ন করেন, তাহলে রেমিট্যান্সটা কোথায় যাচ্ছে? আমি আগের দিনও বলেছি যে, এই রেমিট্যান্স বিদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই কাজটা করছেন সরকারি দলের সঙ্গে যারা জড়িত আছেন, তারাই এটাকে হুন্ডি করে পাচার করছেন। যে কারণে দেশে আজকে যে সংকটটা সৃষ্টি হয়েছে, ইট ইজ ওয়ান অব দ্য রিজনস।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Share post:

Popular

More like this
Related

হাতি হত্যায় ৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

  শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশায় বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে হাতির মৃত্যুকে...

শাকিব খানের বিরুদ্ধে সমন জারি

মানহানির অভিযোগে ঢাকাই সিনেমার নায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে ১০০...

জ্যোতি ঝড়ে ৯ বছর পর শ্রীলঙ্কাকে হারালো বাংলাদেশ

শেষ ৮ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৮...

তীব্র কয়লা সঙ্কটে বড় দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র, লোডশেডিং বাড়ার সম্ভাবনা

ডলারের অভাবে তীব্র কয়লা সঙ্কটে পড়েছে দেশের বড় দুটি...