শনিবার বিকেল থেকেই মার্কিন মুলুকের মিসিসিপির বাসিন্দারা আতঙ্কে প্রহর গুনছিলেন। এই বুঝি বাড়ির ছাদে ভেঙে পড়ল বিমান! ৯/১১-র আতঙ্কে কাঁপছিলেন নাগরিকরা। আধ ঘণ্টার মধ্যে ফাঁকা করে দেওয়া হয় ওয়ালমার্ট স্টোর। কারণ ওই বিরাট বিপণন কেন্দ্রের উপরই বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর হুমকি দিয়েছিল এক যুবক। পরে বিকেলে চুরি করা বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে যেতেই ল্যান্ড করাতে বাধ্য হয় ওই যুবক। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে তার নাম কোরি ওয়েন প্যাটারসন, বয়স ২৯। মিসিসিপি পুলিশের কাছে একটি হুমকি বার্তা আসে। তাতে জানানো হয়, ওয়ালমার্ট স্টোরের উপর একটি বিমান ভেঙে পড়তে পারে। ঘড়িতে তখন ভোর ৫টা।
তড়িঘড়ি পুলিশ সতর্ক হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কাছাকাছি যত শপিং মল কিংবা স্টোর আছে, সেগুলি ফাঁকা করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হয়। গভর্নর টেট রিভ নিজে টুইটে জানান, ”সকলে সতর্ক থাকুন, অযথা ভয় পাবেন না। পুলিশ সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, কাজে সাহায্য করুন।” বিমানটির গতিবিধি প্রতি মুহূর্তে ট্র্যাক করতে থাকেন মার্কিন গোয়েন্দারা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এক যুবক বিচক্রাফ্ট কিং এয়ার C90 A বিমানটি ছিনিয়ে নিয়েছে টুপেলো বিমানবন্দর থেকে। ছোট্ট বিমানটি নিয়েই সে ওয়ালমার্টে হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছে। ওই পাইলটের সঙ্গেও সরাসরি রেডিয়োর মাধ্যমে যোগাযোগ করে পুলিশ। তাঁকে হামলা চালাতে বারণ করা হয়। কিন্তু নিজের জেদই ধরে রেখেছিল অভিযুক্ত ওই যুবক। তবে বাদ সাধে বিমানই। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় তাঁকে একটি ফাঁকা মাঠে বিমান ল্যান্ড করাতে হয়। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক প্যাটারসন টুপেলো রিজিওনাল বিমানবন্দরেরই কর্মী। ফেসবুকে তার বাবা-মা এবং বোনকে বিদায় বার্তা পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরেই তিনি রুক্ষ অবতরণ করেন । সেইসঙ্গে পুলিশকে প্যাটারসন জানিয়েছেন তিনি “আসলে কাউকে আঘাত করতে চাননি।” ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর পিটার গোয়েলজ বলেছেন, ছোট বিমান বন্দরগুলি এবং কর্পোরেট জেট বছরের পর বছর ধরে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করেছে। কারণ কেউ বিমান চালাতে জানলে সহজেই এইধরণের বিমানবন্দরে প্রবেশ করে বিমানগুলিকে প্রাণঘাতী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। নিউইয়র্কের ফার্মিংডেল স্টেট কলেজের এভিয়েশন সেন্টারের ডিরেক্টর মাইকেল ক্যান্ডারস ঘটনাটিকে “একটি ওয়েক -আপ কল” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে , কর্তৃপক্ষ এখনই সচেতন না হলে যেকোনো সময়ে বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে।
সূত্র : india.com












