এবার টাঙ্গাইলের কোরবানি ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ‘মেসি’কে। মেসি খুবই শান্তশিষ্ট একটি ষাড় গরু। মেসির ওজন প্রায় ৩২ মণ। কালো-সাদার মিশেল রঙের সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী ষাঁড়টিকে আদর করে নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেসি।
কালিহাতী উপজেলার মীরহামজানি গ্রামের আল আমিন তার খামের এ ষাড় গরুটি লালন পালন করেছেন। প্রতিদিন তার এ ষাড় গরুটি দেখার জন্য আশপাশেরসহ দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন।
জানা যায়, সরকারি চাকরির পেছনে ছুটে ব্যর্থ হয়ে বাবার পরামর্শে প্রায় ১০ বছর আগে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন আল আমিন। খামার করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এতে তিনি বেশ সাবলম্বী হয়েছেন। তার খামারে বর্তমানে ৩৫টি গরু রয়েছে। প্রতিবছর ৫ থেকে ৮টি কোরবানী যোগ্য ষাড় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। তার খামারেই এবারে কোরবানি উপলক্ষে গড়ে তোলা হয়েছে দানব আকৃতির ৩২ মন ওজনের একটি ষাড়টি। যা তিনি ১০ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন। খামার করায় কর্মস্থান হয়েছে ৮জন শ্রমিকের।
আল আমিন বলেন, ২০০৬ সালে গ্রামের পাশে সল্লা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন এলেঙ্গা শামছুল হক কলেজে। ওই কলেজ থেকেই ২০১৩ সালে স্নাতক (বিএসএস) পাস করেন। পরে চাকরির চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু চাকরি না হওয়ায় তাঁর বাবা তাঁকে পরামর্শ দেন গরুর খামার করার। এর পর থেকে তিনি গরুর খামার করেন। তার খামারের গরুকে ভূষি, চাউলের গুড়া, খড় ও ঘাস খাইয়েই লালন পালন করে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, আশা করছি এ ষাড় গরুটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবো। অনলাইনে মেসির বিজ্ঞাপন দেখে অনেক ক্রেতাই আসছেন। তবে সঠিক দাম পেলে বিক্রি করে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
খামারের ঐতিহ্য ও অন্যদের খামারের প্রতি উৎসাহিত করতে প্রতি বছর একটি করে বিশাল আকৃতির গরু বানাবেন আশা আল আমীনের বাবা হাশেম আলী। আর প্রতিদিন কাজ করতে পেরে ও ন্যায্য পারিশ্রমিক পেয়ে খুশি শ্রমিকরাও।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রানা মিয়া বলেন, খামারীদের প্রশিক্ষনসহ সার্বিক সহযোগী করা হচ্ছে। কোরবানীকে সামনে রেখে অনলাইনে গরু বিক্রিসহ নানা ভাবে সহযোগিতা করা হবে। যাতে গরু বিক্রিতে কোন সমস্যায় পড়তে না হয় খামারীদের বলে তিনি জানান।












