ভয়ভীতির মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে সব গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করানো হচ্ছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার সময়ও অনেক সেতু-কালভার্ট হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ঢাকঢোল পেটানো হয়নি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় রিজভী এসব কথা বলেন।
১৬ জুন সংবাদপত্রের ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম।
আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একসঙ্গে যায় না। এখন অনেক গণমাধ্যম দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু সরকার সেগুলো ভয়ভীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে।
তিনি বলেন, যার উদাহরণ—এখন পদ্মা সেতু নিয়ে সব গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এটাই তো ফ্যাসিবাদ। খালেদা জিয়ার শাসনামলে তো অসংখ্য ব্রিজ–কালভার্ট নির্মাণ হয়েছে, সে সময় তো এমন ঢাকঢোল পেটানো হয়নি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার নাকি নিজের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা; বরং চীনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পদ্মা সেতু করা হয়েছে। এই ঋণের বোঝা সবাইকে শোধ করতে হবে। আসলে যে টাকা খরচ হওয়ার কথা, তা হয়নি; বরং বেশি টাকা খরচ করা হয়েছে। মূলত, এসব টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে আশঙ্কা করেছেন, তা কেন? সবই তো আপনার নিয়ন্ত্রণে। আপনার এত বাহিনী, এত গোয়েন্দা সংস্থা, তাহলে তারা কী করে? এটাকেই বলে যে ঠাকুরঘরে কে রে? আপনার হাতে সবকিছু আর আপনিই দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। আপনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো বিএনপির মৃত নেতার নামেও মিথ্যা মামলা দেয়। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা হয় যে আপনার লোকেরা কী এমন অঘটন ঘটিয়ে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দেবে।
বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।












