শেরপুরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঈদ কেনাকাটার ধুম

করোনা ভাইরাসের এই মহা দুর্যোগেও পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে সামনে রেখে শেরপুরের বাজারগুলোতে কেনাকাটার ধুম। শহরের বস্ত্রবিতান, কসমেটিকস, খাদ্যসামগ্রী ও জুতাসহ বিভিন্ন ধরনের দোকানে উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ বিপনিবিতানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কেউই ঈদের আমেজে সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। ক্রেতা বিক্রেতার অনেকেই করোনার সংক্রমন থেকে বাঁচতে মাক্স, গ্লাভস ব্যবহার করছেন না। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার দোকানগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে জেলায় করোনা সংক্রমনের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জেলা শহরের নিউ মার্কেট, টাউনহল মার্কেট ও বিভিন্ন উপজেলার দোকানগুলোতে পা ফেলার মত জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না। এসব দোকানের বেশির ভাগ ভীড় জমাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন গ্রামের নারীরা। তারা বাচ্চাসহও আসছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। যাদের অনেকেরই করোনা নিয়ে নেই বিন্দুমাত্র ভয়ও। তাদের অনেকের ভাষ্য আল্লায় করোনা দিলে কেও আটকাতে পারবে না।
এমনি ঈদ বাজার করতে আসা সোহেল বলেন, সামনে ঈদ তাই বাচ্চাদের বায়না মেটাতে করোনার ঝুকির মধ্যেও আমরা বাজারে এসেছি কেনাকাটা করতে। আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটার চেষ্টা করলেও প্রচন্ড ভীড়ের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
ইতোমধ্যে জেলায় করোনা সনাক্তের সংখ্যা ৬৭ জন, মৃত্যু হয়েছে এক জনের। এমতাবস্থায় ঈদ বাজারের এমন ভীড়ে করোনা সংক্রমন রোধে দোকানপাট বন্ধের দাবী করছেন অনেকেই। জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত মানুষকে সচেতন করতে কাজ করার পাশাপাশি নিয়ম না মানায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও থামছে না ঈদ বাজারের ভীড়। জেলার নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতীতে নিয়ম না মানায় প্রায় প্রতিদিনই পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমান আদালত।
ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানান, করোনার প্রকোপের অনেক আগেই ঈদের মাল কেনা হয়েছে, এখন যদি তারা বিক্রি করতে না পারে তাহলে তাদের লোকসানে পথে বসতে হতে পারে। তাই তারা দোকানগুলোতে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব মানানোর চেষ্টা করছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনেরায়ারুর রউফ গণমাধ্যমকে বলেন, করোনার এই দুর্যোগ মুহুর্তে বাজারগুলোতে ঈদ কেনাকাটায় এমন জমায়েত ভবিষ্যতে জেলায় করোনার ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। তাই সকলকে সচেতন হতে হবে।
শেরপুর জেলাবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধেকল্পে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরী সভা শেষে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব গণমাধ্যমকে বলেন, সভায় ব্যবসায়ীদের অনুরোধে শর্ত শাপেক্ষে আগামী ২২ মে শুক্রবার বিকেল চারটা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে। তবে অবশ্যই ক্রেতা বিক্রেতাকে মাস্ক পরিধান, সামাজিক ও শারিরিক দূরত্ব বজায়সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখতে হবে। শিশুদের মার্কেটে প্রবেশ নিষেধ এবং বিকেল চারটার পর দোকান খোলা রাখলে ভ্রাম্যমান আদালতে জেল দেওয়া হবে।

SHARE