শাহরাস্তিতে তরুণী গণধর্ষণের শিকার

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক এতিম তরুণী (১৮) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) ওই ঘটনায় নির্যাতিতা তরুনীর শাহরাস্তি থানায় বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। ওইদিন সকালে অভিযুক্ত তিন যুবককে পুলিশ  চাঁদপুর জেল হাজতে প্রেরণ করে।
নির্যাতনের শিকার তরুনীর পরিবার, থানা পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউপি’র জনৈক এক  তরুণীকে তার পিতা-মাতা দুনিয়ায় রেখে তাদের মৃত্যু হয়।তখন তার একমাত্র ভাই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দিনমজুর ভাইয়ের নিকট জীবন কাটছিল ওই তরুণীর। এরইমধ্যে করোনাকালীন লকডাউনে স্থানীয় উনকিলা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের পুত্র আলম (২০) সঙ্গে ওই তরুণী সখ্যতা তৈরি হয়। এভাবে কিছুদিন কাটতেই আলম ওই তরুণীকে কাছে পেতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই সুযোগে একই ইউপি’র গোখরা গ্রামের জহিরুল হকের পুত্র রাকিব হোসেন (১৮) ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাকুল হয়ে ওঠে । অভিভাবকহীন ওই তরুণী নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে দুই যুবকের সঙ্গে অস্তিত্বহীন প্রেমের পিছনে নিজেও জড়িয়ে পড়ে। এতে বন্ধু সম্পর্কীয় ওই দুই যুবক বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক মেলামেশায় লিপ্ত হয় বলে এলাকায় চাউর রয়েছে।

পরে গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ওই তরুণীকে তার বাড়ির পাশে আলম তাকে ডেকে নিয়ে তার কামবাসনা চরিতার্থ করে। ওই সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা অপর বন্ধু রাকিব হোসেন একই কায়দায় ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। তাদের কামবাসনা পূর্ণ করতে তাদের অপর বন্ধু একই এলাকার মৃত রুহুল আমিনের পুত্র শফিকুল ইসলাম (১৯) পাহারায় বসিয়ে এ কাজ সিদ্ধ করে । পরে হতভম্ব তরণী দুই বন্ধুর অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনাচারের শিকার হয়ে বাড়ি ফিরে। ওই সময় তার স্বজনরা কেউ একজন তার আচরণে ও শরীরে মাটি কাদার উপস্থিতি দেখতে পেয়ে তাদের জেরার মুখে সে সব খুলে বলে। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে কয়েকদিন হজম করার পরে স্বজনদের গন্ডি পেরিয়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গত শুক্রবার (২২ আগস্ট) ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন সত্যতা নিশ্চিত হতে দুই পক্ষকে ইউপি কাউন্সিলে ডেকে পাঠান। এতে তিনি ওই তরুণীর মুখে লোমহর্ষক ওই ঘটনার বিশদ বিবরণ শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার বিষয়টি অবহিত করেন। পরে ওই রাতে শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি শাহ আলম এলএলবি এসআই জাকির হোসেন  ও জাহাঙ্গীর আলমকে পাঠিয়ে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী ও অভিযুক্ত তিন যুবককে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন। রবিবার (২৩ আগস্ট) নির্যাতনের শিকার তরুণী অভিযুক্ত, ১নং আলম,  ২নং রাকিব হোসেন ও শফিকুল ইসলামকে ৩নং আসামীকে বিবাদী করে একটি নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি শাহ আলম জানান, ভিকটিমকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করা  হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শেষে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে।

SHARE