রাস্তার যানজট ও অন্যান্য

এক.
শেরপুরের রাস্তায় যানজট কমাতে অনেকদিন পর একটি কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে শেরপুর পৌরসভা ও পুলিশ প্রশাসন। উদ্যোগটি হলো লাইসেন্সধারী ইজিবাইকগুলিকে দুটি রঙে ভাগ করে দেয়া এবং সেই রঙ অনুযায়ী দিন ভাগ করে চালানোর নির্দেশ দেয়া। এমন হলে দৃশ্যত ফলও মিলবে উদ্যোগটির।
সাদা রঙে যে ইজিবাইকগুলোর সমুখ রাঙানো সেগুলি একদিন চলবে, পরের দিন চলবে হলুদ রঙে রাঙানোগুলো। যার ফলে প্রতিদিন শহরের রাস্তায় আগের তুলনায় অর্ধেক ইজিবাইক চলবে। সঙ্গতভাবেই রাস্তার যানজট কমে যাবে অর্ধেকে।
মূলত শেরপুরের যানজটের মূল কারণ প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তায় ইজিবাইকের বাহুল্য। শেরপুরের যে পরিমান রাস্তা রয়েছে তার অনুপাতে প্রায় ৪ গুন যানবাহন রয়েছে চলমান। আর এর বেশিরভাগই ইজিবাইক। ফলে ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ যানজট উপশমের জন্য ছিল জরুরি। অনেকদিন পরে হলেও একটি কার্যকর উদ্যোগের জন্য প্রশংসার দাবীদার হতেই পারে শেরপুরের পৌর ও পুলিশ প্রশাসন।
দুই.
কিছুদিন আগে জেলা ও পৌর প্রশাসন রাস্তায় চলাচলরত গবাদি পশুর ব্যাপারে সচেতন ও সোচ্চার হয়েছিল। জেলা শহরের রাস্তায় প্রায়শই দেখা যায় গরু কিংবা ভেড়ার পাল। রাস্তা দখল করে এই পশুরা শুয়ে থাকে কিংবা চলাচল করে। এর ফলে যানজট ও ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে প্রায়শই। এসব গবাদি পশু বিষয়ে মোটামুটি কঠোর সিদ্ধান্তই নেয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে। কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের উদ্যোগ তেমনটি দেখা যায়নি। যার ফলে এখনো রাস্তায় অবাধে চলাচল করছে এসব পশু, সাথে যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়শই।
তিন.
সিএনজি চালিত অটোরিক্সার কথা বলি। এসব তিন চাকার বাহন এখন চলছে দূরপাল্লাতেও। শেরপুর থানা মোড় থেকে ময়মনসিংহ অবধি যাচ্ছে এসব বাহনগুলি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এদের চালকদের নিয়ে। এসব চালকদের বেশিরভাগই তরুণ। তাদের লাইসেন্স আছে কী-না হালকা যানবাহন চালানোর, সঠিক প্রশিক্ষণ রয়েছে কী-না, তারও কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। যার ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। এ ব্যাপারটিও জেলা পুলিশের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকাদের দেখতে হবে। সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে তরফ থেকে চালনা এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে এহেন চালকদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করতে হবে।