রাজি না হলেই গ্যাং রেপ করা হয় তরুণীদের

রাতে ঘুমানোর আগে ঘটে ঘটনাটি। তার রুমে ঢুকে পলক মন্ডল জানতে চায়, আপা কোন সমস্যা নেইতো? বলতে বলতে খাটের এক পাশে বসে রুপার (ছদ্মনাম) হাতটি টেনে ধরে। মুহূর্তেই অচেনা হয়ে যায় পলক মন্ডল। সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুরে রুপাকে নিয়ে আসা পর্যন্ত এই পলক ছিলো দাদা বা ভাই। নিরেট ভদ্রলোক। এখন যেনো তার ভেতরের অসভ্য মানুষটির স্বরূপ প্রকাশ পাচ্ছে। রুপা হাত টেনে দুরে সরতে চেষ্টা করে। পলক এবার রুপার পুরো শরীরটাকে জাপটে ধরে।

কষে পলকের গালে একটা চড় বসিয়ে দেয় মেয়েটি। গালি দেয় পলক। সেইসঙ্গে মারধর। পাশের রুম থেকে বিষয়টি টের পেয়ে রুপাকে গালিগালাজ করতে থাকে তাসলিমা বিউটি। যার হাত ধরে শতাধিক নারী পাচার হয়েছে ভারতে। বিউটি চিৎকার করে বলতে থাকে, এবার তোকে এমন শিক্ষা দেব। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে কিভাবে বাঁকা করতে হয় তা জানা আছে।
দশ মিনিটের মধ্যে তিন যুবক হাজির ওই ঘরে। পলকসহ চার যুবক রুপার রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। ‘মাগো মাগো,’ ‘আমার সঙ্গে এমরক করবেন না ভাইগো..’ বলে চিৎকার করতে থাকে মেয়েটি। কিন্তু উচ্চ ভলিয়মে বাজানো হিন্দি গানের প্রভাবে শব্দটি সবার কানে পৌঁছায় না। যৌন নির্যাতনে পরদিন অসুস্থ রুপা। কয়েক দিন বাসা রেখে চিকিৎসার নামে ওষুধ সেবন করানো হয় তাকে। পরে ব্যাঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটির এক বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় রুপাকে। সেখানে তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করতো টিকটক হৃদয়। এরমধ্যেই তাকে পাঠানো হতো বিভিন্ন হোটেলে, ম্যাসাজ সেন্টারে, মিনি পতিতালয়ে। শেষ পর্যন্ত গত মে মাসে মেয়েটি পালিয়ে ঢাকায় ফিরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। টিকটক হৃদয়, তাসলিমা বিউটিসহ দালালদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ডিএমপির হাতিরঝিল থানায়।
পাচার হওয়া প্রসঙ্গে রুপা জানিয়েছে, গত বছরের শুরুতে ফেসবুকে টিকটক হৃদয়ের বান্ধবী হিসেবে পরিচয় ঘটে ইতির সঙ্গে। কথা হতো হৃদয়ের সঙ্গেও। ঢাকার মগবাজারের হৃদয় তার পূর্ব পরিচিত। চাকরির জন্যই ভারতে পা দিয়েছিলো রুপা। গত বছরের শুরুতে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা। তারপর সাতক্ষীরা সীমান্তে একটি ঝুঁপড়ি ঘরে কাটে দুই রাত। পরবর্তীতে এক মধ্যরাতে এই চক্রের মেহেদি, বাবু, মহিউদ্দিন, সালাম সীমান্ত পার করে দেয়। ওপারে বকুল নন্দী নামে আরেক দালালের বাসায় এক রাত। পরবর্তীতে পলক মন্ডল তাকে নিয়ে যায় ব্যাঙ্গালুরুতে। সেখানেই গ্যাং র্যা পের শিকার হয় মেয়েটি।
রুপা জানিয়েছে, পতিতাবৃত্তিতে রাজি না হলে এভাবেই পাচার হওয়া প্রতিটি মেয়েকে গ্যাং রেপ করা হয়। এসময় উচ্চ ভলিয়মে হিন্দি গান ছেড়ে দেয় ওরা। আশপাশের লোকজনের কানে কোনোভাবেই এই শব্দ পৌঁছায় না।
সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশি এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও ফাঁস হলে তদন্তে নামে দুই দেশের পুলিশ। এ ঘটনার পর ভারতে ১১ বাংলাদেশি ও এক ভারতীয় গ্রেপ্তার হয়েছে। এরমধ্যে ১০ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৩ জনকে। এরমধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ডিএমপি’র হাতিরঝিল থানায় এ পর্যন্ত সর্বমোট পাঁচটি মানব পাচার মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের তেজাগাঁও জোনের এডিসি হাফিজ আল ফারুক বলেন, ইতিমধ্যে এই নারী পাচারকারী চক্রের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।

SHARE