মাস্কবিহীন শেরপুর অধিক সংক্রমনের ঝুঁকিতে

করোনা মহামারীতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ মাস্ক ব্যবহার আবশ্যিক করে দিয়েছে। মাস্ক সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ গবেষণা নিশ্চিত করেছে মাস্ক সংক্রমনে রোধে কার্যকর। এটা পড়ে অসুস্থ ব্যক্তি বাইরে এলেও সংক্রমনের সম্ভাবনা কম থাকে। আর সবাই মাস্ক পড়লে সংক্রমের সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
অথচ আমাদের শেরপুরে মানুষের প্রায় মুখই মাস্কহীন। গত মঙ্গলবার সাপ্তাহিক শেরপুরের পক্ষ থেকে পথচারীদের মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে শহর ঘুরে একটি টিম। কিন্তু যা দেখা গেছে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। গড়ে ১০ শতাংশ মানুষের মুখেও মাস্ক দেখেনি এই টিমটি। অথচ সরকার নির্দেশনা দিয়েছে মাস্ক পড়া নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

শেরপুর জেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে। কিন্তু জারির কাগজ সম্ভবত প্রয়োগরে ক্ষেত্রে সফল হয়নি। ফলে মাস্ক পড়া নিশ্চিতের ব্যাপারে তেমন কোনো শক্ত পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
শেরপুরে রাস্তায় সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। ঈদকে সামনে রেখে এ অবস্থা আরো খারাপের দিকে। সামাজিক দূরত্ব বলে কোনো ব্যাপার রয়েছে এমনটা বোঝার কোনো উপায় নেই কোথাও। বিপনী বিতানগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। নেই জীবানুমুক্ত করণের কোনো প্রক্রিয়া।
এদিকে জেলার সংক্রমন আবার বেড়েছে ২৮ জুলাই সংক্রমিত হয়েছেন নতুন করে ৯ জন। এরমধ্যে প্রায় সবাই শেরপুর জেলা শহরের বাসিন্দা। বিশেষ জেলা শহরের বাগরাকসা, রাজবল্লভপুর, গৃর্দানারায়ানপুর, নারায়নপুর, চকপাটক, কসবা, তিনানী বাজার, সজবরখিলা এসব এলাকায় করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। বাগরাকসা এলাকায় মৃত্যুবরণ করেছেন একজন। এ অবস্থায় সারা জেলা শহরই রয়েছে ঝুঁকির মুখে। সারা জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৮ জন। মৃত্যু ঘটেছে ৪ জনের। ফলে জেলার উপজেলাগুলোর ক্ষেত্রেও ঝুঁকি কম নয়।

নেকে বলেন এ ঝুঁকি মোকাবেলায় কিছু কৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা। বিশেষ করে শেরপুরে অটোরিক্সা ও রিক্সা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সংক্রমন অনেকটাই কমানো যেতে পারে। অটোরিক্সা ও রিক্সা চালক ও যাত্রীদের যদি মাস্ক পড়া নিশ্চিত করা যায় তবে শহরের ঢোকা বেশিরভাগ মানুষের মুখেই মাস্ক থাকবে। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ বিভাগ সক্রিয় হতে পারে। বিশেষ করে প্রতি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সাথে বাড়তি জনবল দিলে শহরের ঢোকার পয়েন্ট থেকেই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই কোন না কোন পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বও রয়েছে এ ব্যাপারে। তারাও তাদের বিশেষ টিম পাঠাতে পারেন শহরের বিভিন্ন স্থানে।

মূল কথা হলো যেভাবেই হোক মাস্ক পড়াটা যতটা পারা যায় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়া। যা সরকার আবশ্যিক করে দিয়েছেন।