বহিস্কৃত ছাত্র নেত্রী জারিনের আত্মহত্যার চেষ্টা!

আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা না পাওয়া বহিস্কৃত সেই নেত্রী জারিন দিয়া। গত ১৩ই মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘অনাকাঙ্খিত’ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে অন্য ৫ কর্মীর সঙ্গে তাকেও বহিস্কার করা হয়। সেই দুঃখ-ক্ষোভ থেকে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানা যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জারিন দিয়া নামের এক ছাত্রী ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে আসেন। পরে তাকে স্টমাক ওয়াস দিয়ে ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেয়া হয়েছে।

স্লিপিং পিল সেবন করে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা চালান বলে জানা গেছে। বিষয়টি জারিনের বন্ধুরা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতদের ওপর মধুর ক্যান্টিনে হামলা ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন নারী কর্মী। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য জারিন দিয়া। তার কোমরের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি লিখেন, ‘মধুর ক্যান্টিনে সেদিনের মারামারিতে কোমড়ে ভীষণভাবে আঘাত প্রাপ্ত হই। দিনে দিনে কোমরের হাড়টি ফুলে যায়। গতকাল (বুধবার) আল্ট্রাসনো এবং এক্সরেতে ধরা পড়ে কোমরের পাজরের হাড়টি ফ্র্যাকচার হয়ে গেছে। ডাক্তার আমাকে টোটালি বেডরেস্ট দিয়েছে। আমার বাবা মা ফ্যামিলির সবাই খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তারা আমাকে বাড়িতে নিয়ে চলে এসেছে। আপনারা সকলেই আমার জন্যে দোয়া করবেন।’

জারিন দিয়া বলেন, ভালোবাসার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে হয়তো অনেক বেশিই ভালোবেসে ফেলেছি। আমি খুব সাধারণ একজন কর্মী। কারোর সাথে কোন শত্রুতা ছিল না কোন দিন। একটা স্ট্যাটাস এর মাধ্যমে হয়তো আজ অনেক আলোচনা সমালোচনার মুখোমুখি পড়েছি। পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছি বলেই স্ট্যাটাসটা দেই নাই। আসলে জমে থাকা কষ্টগুলো ভিতরে আর রাখতে পারিনি। সত্যি অনেক পরিশ্রম করেছিলাম।

তথ্যমতে, ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশের এক বছর পর গত ১৩ মে ঘোষণা করা হয় সংগঠনের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ওইদিন সন্ধ্যায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন নারী নেত্রীসহ ১০-১২ জন আহত হন। সেই ঘটনা তদন্তে ১৪ মে তিন সদস্যের কমিটি করে ছাত্রলীগ। কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সেই কমিটি গত শনিবার রাতে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই জেরিনকে বহিস্কার করা হয়।