নকলায় শশা বাগানে ফল নেই; চাষীদের হতাশা

শেরপুরের নকলা উপজেলার চরকৈয়া এলাকার চাষীদের শশার বাগান ঘুরে দেখা যায়, শশা বাগানে শুধুই পুরুষ ফুল, স্ত্রীফুলের বালাই নেই। এমনকি কচি শশাও দেখা যায় না। এতে চাষীরা চরম হতাশা ভোগ করছেন। পাশের উপজেলা ফুলপুর এর মা বীজ ভাণ্ডার থেকে প্রায় দুই শতাধিক শশা বীজ প্যাকেট ক্রয় করেছিলেন চাষীরা। বীজ প্যাকেটগুলো ছিল সিলেটের কুশিয়ারা সীডস কোং লি. এর শাপলা হাইব্রিড জাতের বীজ। এলাকার চাষীরা ৪ একর জমি উত্তমরূপে চাষাবাদ করে বীজগুলো বপন করেছিলেন। বীজ বিক্রেতাদের মতে, ৩০/৩৫ দিনের গাছে শশা ধরবে। শতাংশে প্রায় ৪/৫ মন হবে। যার আনুমানিক মূল্য হবে ৮ হাজার টাকা। কিন্তু ফুলপুর আমুয়াকান্দা এলাকার ‘মা বীজ ভাণ্ডার’ এর পরিচালক ফখরুদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানা যায়, বৈশাখ জৈষ্ঠ্য মাসে শশার বীজ বিক্রি করা ঠিক নয়। আশ্বিন কার্তিক মাসে শশা বীজ বিক্রি এবং বীজ রোপনের উত্তম সময়। কোম্পানীর সাথে কথা বলেছি লকডাউন শেষে তারা মাঠে কৃষকদের সাথে কথা বলবে। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কোম্পানী। ৩০/৩৫ দিনের মধ্যে শশা গাছে শশা ধরে। কিন্তু বর্তমানে শশা গাছের বয়স ৫৫/৫৮ দিন। শশা বীজ কোম্পানীর মতে, লতা জাতীয় এ শশা গাছের আয়ুস্কাল ৭০/৭৫ দিন। শশাগাছে শুধু ফুল দেখা যায়। কিন্তু ফল দেখা যায় না। ফুলগুলো মনে হয় পুরুষ ফুল। যা ফল ধরার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফুল ঝড়ে পড়ছে। এ কোম্পানীর বীজে নকলায় ৪ একর জমি চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে বিল্লাল হোসেন জানায়, আমরা ২০/২২ জন চাষী শশার আবাদ করেছিলাম। ভালো ফলনের জন্য মা বীজ ভাণ্ডার আমাদেরকে অধিক ফসলের লোভ দেখিয়ে বীজ বিক্রি করেছিল। চলতি ৫০ দিনেও গাছে শশা ধরছে না। ধরার সম্ভাবনাও নেই। গাছ লাল হয়ে মারা যাচ্ছে। প্রতি শতাংশ বাগানে খরচ হয়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা। শশার উৎপাদন ভালো হলে শতাংশে কৃষকদের ১৫/২০ হাজার টাকা আয় হতো। ব্যবসায়ীদের কারসাজির জন্যই আজ কৃষকদের হতাশা। মা বীজ ভাণ্ডার মুঠোফোনে এই প্রতিনিধিকে জানায়, ঋতুর কারণে এ সমস্যাটা হয়ে থাকে। কারণ গাছের প্রচুর বৃদ্ধির কারণে গাছগুলো ফল ধারণ করা ভুলে যায়। ফলে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এলাকার এক চাষীর বাগানে দেখা যায়, বাগানে শশা প্রচুর পরিমাণে ধরেছে। আলভী নামক কোম্পানীর বীজ বপন করেছে তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আঃ ওয়াদুদ জানান, এ মৌসুমে বেশি তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের কারণে গাছের বৃদ্ধি বেশি হয়, ফল ধারণ করতে ভুলে যায়। হয়ত বীজ ব্যবসায়ীরা ভুলক্রমে বীজ বিক্রি করেছে। যার ফলেই কৃষকদের চরম ভোগান্তি। হতাশ হয়ে ভাবছে কৃষকরা কীভাবে পুশিয়ে নেবে তাদের এ ক্ষতি।

SHARE