ধানকাটা নিয়ে সংঘর্ষে নালিতাবাড়ীতে গুলিতে কৃষক নিহত, অভিযোগের তীর ইউপি চেয়ারম্যানের দিকে

 

শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলায় ধানকাটা নিয়ে সংঘর্ষে গুলিতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ইদ্রিস আলী (৪৫)। সে উক্ত ইউনিয়নের কুত্তামারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, যোগানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে নিহত হন ইদ্রিস।

স্বজনরা বলেন, মূলত বিগত উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি ও নিহতের চাচাতো সোহরার আলীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন তিনি। বিপরীতে সোহরাব আলী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বর্তমান নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুর রহমান লেবুর সমর্থক। নৌকা প্রতিকের আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হবার কারণে সোহরাব আলীর সাথে চেয়ারম্যানে দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পায়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকালে কয়েকজন ধানকাটা শ্রমিক নিয়ে সোহরাব আলীর জমিতে ধান কাটতে যান। ওই জমির পাশের্^ই ইউপি চেয়ারম্যান হবির ভাতিঝি জামাই মাজব আলীর জমি। পূর্বের নির্বাচনী বিরোধের কারণে মাজব আলী ধান কাটতে সোহরাব আলীকে বাধা দেয়। বাধা পেয়ে সোহরাব আলী ফিরে এসে আরো লোকজন সংগ্রহ করে পুনরায় ধান কাটতে যায়। এ সময় চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি লোকজন নিয়ে মাজব আলী পক্ষে সোহরাব আলীর লোকজনের উপর হামলা চালায়। এই হামলা চলাকালেই গুলিবিদ্ধ হয় ইদ্রিস আলী। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নালিতাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ইদ্রিস আলীর দেহ নিজ জিম্মায় নিয়েছে। থানা থেকে জানানো হয়েছে, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি ও তার লোকজন আত্মগোপনে চলে গেছেন।