ঝিনাইগাতীতে লিচুর চাষ ক্রমেই সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে বানিজ্যিক ভাবে লিচুর আবাদ হচ্ছে। এতে লিচু চাষীরা লাভবান হচ্ছেন ক্রমেই। এমনকি এর প্রেক্ষিতে বাসা বাড়িতেও লিচু গাছ লাগানো হচ্ছে। এখন প্রায় বাড়িতেই লিচু গাছ দেখতে পাওয়া যায়। অথচ একযুগ আগেও উপজেলায় তেমন লিচু গাছ চোখে পড়েনি।

লিচু চাষ ক্রমেই লাভজনক হওয়ায় লিচু চাষীরা চায়না জাতের লিচুর প্রতি খুব ঝুঁকেছে। ফলে ঝিনাইগাতীর বাজারে দেশি লিচুর সাথে চায়না জাতের লিচুরও বিপুল সমারোহ ঘটেছে। এসব লিচু মিষ্টি এবং এর গুনগত মান ভালো। যার ফলে গ্রাহকরাও উৎসাহী হয়ে উঠেছে ঝিনাইগাতীর লিচুর প্রতি।

লিচু চাষী মনি, মুক্তা, শিহাব ও সামছুদ্দিনরা জানান, লিচু এখন উপজেলা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের বাজারেও যাচ্ছে। আগে শুধু নিজেদের খাওয়া ও উপজেলার চাহিদা মিটতো। কিন্তু এখন নিজেরাতো খাচ্ছিই, বেচে অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছি।

এদিকে লিচু চাষের সাফল্যে পাহাড়ি এলাকার মানুষজনও উৎসাহিত হয়ে পড়েছে লিচু চাষে। অনেকেই ২০ থেকে ১শটা পর্যন্ত লিচু গাছ লাগিয়ে বাগান শুরু করেছেন।

লিচু বিক্রেতা আলাল মিয়া জানান, উপজেলার ফাকরাবাদ, হলদিগ্রাম, আয়নাপুর, বনগাঁওসহ পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে লিচু এনে আমরা বিক্রি করি। বাজারে ১শ লিচুর দাম দেড়শ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ঢাকার পাইকাররা লিচু নিয়ে যাওয়ায় আমাদের স্থানীয়দের ব্যবসায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। দামও বেড়ে যাচ্ছে।

লিচুর ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, এবার ঝিনাইগাতীর ৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। যেহেতু উপজেলার লিচু গুনগত ভাবে ভালো সেহেতু লিচুর চাহিদা আরো বাড়বে। লিচু চাষে আরো অধিকতর আগ্রহী হবে মানুষ। বেকার সমস্যাও এর ফলে কিছু কমবে।