জমিয়তের বিএনপি জোট ছাড়া নিয়ে যা বললেন ফখরুল

সরকারের চাপে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের একাংশ বিএনপি জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মাহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ২০ দলের মধ্যে চমৎকার। রাজনীতিতে উনারা (জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশ) টিকতে পারছেন না, বিরোধী রাজনীতিতে টিকতে পারছেন না সেকারণে উনারা চলে গেছে। এই কথা বললেই তো হয়- প্রচন্ড চাপের কারণে আমরা টিকতে পারছি না, মামলা-মোকাদ্দমায় ভীষন ভাবে আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছি। সেটা না বলে কোনো ব্যক্তি বা কোনো দলকে দোষারোপ করা- এটা সঠিক কাজ নয়।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের দল এবং আমাদের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী রাজনীতি করছি এবং ২০ দলেও যারা আছেন আমাদের সঙ্গে তারাও সেভাবে রাজনীতি করছেন। পারস্পরিক আস্থা আমাদের মধ্যে চমৎকার আছে।
গত ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে ২০ দল ছাড়ার ঘোষণা দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া। এই অংশটি প্রয়াত আল্লামা নুর হোসেইন কাশেমীর অনুসারী।

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে বাহাউদ্দীন জাকারিয়া বলেন, সম্প্রতি শরিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ ও মতামত না নিয়ে বিএনপির একতরফাভাবে নির্বাচনের বর্জনের ঘোষণা দেয়া, বিএনপি মহাসচিবের শরীয়া আইনে বিশ্বাসী না হওয়ার বক্তব্য দেয়া, দেশব্যাপী আলেম-উলামাদের জেলজুলুমের প্রতিবাদ না করা, দলের প্রয়াত নেতা আল্লামা নুর হোসাইন কাশেমীর ইন্তেকালের পর তার প্রতি বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা জ্ঞাপন না করা এবং তার জানাজায় অংশগ্রহণ না করায় জমিয়তের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা মনে করি ২০ দলীয় জোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করাই জমিয়তের জন্য কল্যাণকর।

প্রয়াত আল্লামা নুর হোসেন কাশেমীর নেতৃত্বাধীন অংশটি ২০ দল ছেড়ে গেলেও প্রয়াত মুফতি ওয়াক্কাসের অংশটি জোটে রয়েছে।
‘শরীয়া আইন প্রসঙ্গে’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শরীয়া আইনের ব্যাপারেও উনারা বলেছেন যে, আমরা শরীয়া আইনে বিশ্বাস করি না। আমাদের সংগঠনের গঠনতন্ত্র পড়লে দেখবেন, শরীয়া আইনের বিশ্বাসের ব্যাপারটা নাই কোথাও। হয়ত..। উনারা চান, উনারা করুন। আমাদের সব জয়গাতে পরিস্কার করে বলা আছে যে, আমরা শরীয়া আইনের কোনো বিরোধিতা করব না, শরীয়া আইনের বিরোধী কোনো আইন পাস করব না। আমরা সরকারে ছিলাম কোনো আইন পাস করি নাই্। কিন্তু এই কথা বলা যায় কি যে, আমি শরীয়া আইনের বিরোধিতা করেছি, ইসলামী মূল্যবোধের বিরোধিতা। এসব কথা বলার অর্থ হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত আক্রমণ করা। যেটা আমি মনে করি যে, উনারা ভালো কাজ করেনি। এসব ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে উনারা দূরে সরে আসবেন।

তিনি বলেন, উনারাদের সাথে আমাদের কোনো সমস্যাই হয়নি। আপনারা দেখবেন, ২০ দলের যে ঘোষণাপত্র ছিলো যেটাতে বলা হয়েছিলো ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে একটা আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য একটা জোট এবং সেই ভাবে এই আন্দোলন করেই নির্বাচনে যাওয়ার একটা ব্যাপার ছিলো। সেখানে কিন্তু শরিক যেকোনো দল তার নিজস্ব রাজনীতি করবে, তার নিজস্ব কথা বলবে। এখানে আরেকটা দলের রাজনীতি আরেকটার উপরে চাপিয়ে দেয়ার কোনো ব্যাপার নেই। সেখানে তারা(জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশ) যে কথাগুলো বলেছেন তার একটাও সত্য নয়। উনারা বলেছেন, যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা নুর হোসেইন কাশেমী সাহেব অত্যন্ত শ্রদ্বেয় মানুষ। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা করতাম, একজন সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক লোক বলতে যা বুঝায় তিনি ছিলেন। বড় আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদও ছিলেন। উনি মারা যাওয়াতে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে এ ব্যাপারে সন্দেহ নাই।

নুর হোসেইন কাশেমীর মৃত্যুর সাথে সাথে শোকবানী প্রদান ও ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকায় সফরকে কেন্দ্র করে আলেম-উলামাদের গ্রেপ্তার মামলা দায়ের ঘটনার পরপরই বিবৃতি প্রদান ও বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বিএনপি একাধিকবার করেছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, কিভাবে উনি (জাকারিয়া) বললেন, আমরা কোনো কিছু করি নাই। এটা কেনো ও কিভাবে বললেন আমি জানি না। উনি সত্য কথা বলেননি। মানুষ আশা করে আলেম-উলামারা সত্য কথা বলবেন।

SHARE