চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এখন বাংলাদেশে

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গহি ঢাকায় এসেছেন। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। একদিনের এই সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট-সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে তার এই সফর বলে ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব আলোচনায় টিকা নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেন নি তারা। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জোরালো সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। ফলে আলোচনায় সামরিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সফরকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। শিখা অর্নিবাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এদিকে শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারই তিনি শ্রীলঙ্কা হয়ে নিজ দেশে ফিরবেন। এ নিয়ে সম্প্রতি চীনা ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের দুইবার শ্রীলঙ্কা সফর করা হবে। এপ্রিলের ২৭ থেকে ২৯ তারিখ শ্রীলংকা অবস্থান করবেন তিনি। সফরে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে, প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর।

গত বছরের নভেম্বরের শেষে এক দিনের সফরে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় আসার কথা থাকলেও সফরের আগমুহূর্তে তা স্থগিত হয়ে যায়।

এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণের মধ্যেই ঢাকায় আসলেন চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এ অঞ্চলে ভূরাজনীতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তার সফর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে চীন থেকে টিকা পেতে চায় বাংলাদেশ।

এদিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি বলেছেন যে, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের আমন্ত্রণে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরভানে এ মাসের শুরুতে পাঁচ দিনের সফরে ঢাকা এসেছিলেন। জেনারেল আজিজ ২০১৯ সালের নভেম্বরে চীন সফর করেছিলেন।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমরাস্ত্রের বড় উৎস চীন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম সাবমেরিনও কেনা হয়েছে দেশটি থেকে।