ইউরোপে স্পেনকে ছাড়িয়ে বৃটেনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের হার

স্পেনকে ছাড়িয়ে গেছে বৃটেন। ফলে ইউরোপে প্রতি দিনের হিসেবে বৃটেনে এখন সবচেয়ে বেশি হারে মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ভিত্তিক গবেষণা ‘আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডাটা’তে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বৃটেনে প্রতি ১০ লাখ মানুষে করোনা ভাইরাস পজেটিভ পাওয়া গেছে ১০৭.৩ জনের। ইউরোপের ভিতর সবার আগে করোনার টিকা শুরু করার পর ওই অঞ্চলে বৃটেন ছিল কমচেয়ে কম আক্রান্ত দেশগুলোর অন্যতম। অন্যদিকে এ সময়ে ইউরোপের অনেক দেশ করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছিল। কিন্তু অতি সংক্রমণযোগ্য ভারতীয় একটি করোনার ভ্যারিয়েন্ট বৃটেনকে আবার পিছনে নিয়ে গেছে। এ কারণে লকডাউন শিথিল করা বা প্রত্যাহার করায় চূড়ান্ত দফায় এসে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। পরিসংখ্যানে ইউরোপের ৪৩ দেশের তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে।

তার মধ্যে সংক্রমণের হারের দিক দিয়ে সবার সামনে এখন বৃটেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে আছে স্পেন। সেখানে প্রতি ১০ লাখে আক্রান্তের হার ১০৪.৬। এরপরেই রয়েছে যথাক্রমে লাতভিয়া (৯২.১), আন্দোরা (৯০.৬), বেলারুশ (৮৯.৭৭), রাশিয়া (৮৩.৭), ডেনমার্ক (৭৮.৩৬), নেদারল্যান্ডস (৭৭.১৯), সুইডেন (৭৬.৩)। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে আরো বলা হয়েছে, গত বছর মার্চে যখন প্রথম দফা করোনা ভাইরাস ইউরোপে আঘাত করে তখন সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয়েছিল ইতালির। সেখানে এখন প্রতি ১০ লাখে আক্রান্তের হার ২৮.৫। পর্তুগালে প্রতি ১০ লাখে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০.৫৮। তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে আইসল্যান্ড এবং সান মারিনো। এই দুটি দেশে প্রতি ১০ লাখে আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত তথ্যমতে, সোমবার আইসল্যান্ডে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে ৫ জনের। অন্যদিকে সান মারিনোতে কোনো আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অন্য দেশগুলোর তুলনায় বৃটেনে অধিক মানুষের টেস্ট করা হচ্ছে বলে হয়তো, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ‘আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডাটা’য় বলা হয়েছে, বৃটেনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার সর্বোচ্চ হলেও গত সপ্তাহে ইউরোপে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। এর ফলে সেখানে মৃত্যুহার অনেক কম।
বৃটেনকে ইউরোপে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, সেখানে ওইদিন ৭৬৭৩ জনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে এক চতুর্থাংশ। এ সময়ে হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীর ভর্তি বেড়ে গেছে শতকরা ৫৬ ভাগ। ৯ই জুন বৃটেনজুড়ে ১৮৪ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। ২রা জুন এই সংখ্যা ছিল ১২৬। হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মৃত্যুহার কমেছে। মঙ্গলবার সরকারি হিসাবে মারা গেছেন ১০ জন। আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১৩। জুনের প্রথম সপ্তাহে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে করোনায় মারা গেছেন অনেক কম মানুষ। ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের ডাটা অনুযায়ী, ২৯ শে মে থেকে ৪ঠা জুন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৫২ জন। আগের এক সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ৬৯। কিন্তু এই হার বাড়ছে নর্থওয়েস্টে। সেখানে এক পক্ষকালে মৃতের সংখ্যা আট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৬।
বৃটেনের প্রধান মেডিকেল অফিসার ক্রিস হুইটি সতর্কতা করে দিয়ে বলেছেন, এরই মধ্যে বৃটেনে ৩ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হয়েছে। এক সতর্কবার্তায় বার্মিংহাম, লিভারপুল, ওয়ারিংটন এবং চেশায়ারের অংশবিশেষে লোকজনের চলাচল সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। রূপান্তরিত করোনা ভাইরাসে অন্য স্থানের তুলনায় এসব এলাকায় বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন বলে এমন নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

SHARE