আরমানিটোলা ট্রাজেডিতে আহত নবদম্পতি লাইফ সাপোর্টে

রাজধানী পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় একটি ভবনে রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট আগুনে আহত নবদম্পতি মুনা সরকার ও আশিকুজ্জামান খানের জ্ঞান ফিরেনি। আজ তাঁদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জ্ঞান হারিয়েছিলেন তাঁরা। দুজনের শরীরের ভেতরই ধোঁয়া প্রবেশ করে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্বাসনালি। দুজনই এখন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। আইসিইউতে থাকা দুজনের জ্ঞান থাকলেও অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
জানা গেছে, মুনা সরকার ও তাঁর স্বামী আশিকুজ্জামান খানের বিয়ে হয়েছে মাত্র দেড় মাস আগে। মুনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর আশিকুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র।

ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমকে জানান, ‘এখন আসলে করণীয় নেই। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন চারজনের শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। মুনা ও আশিকুজ্জামান ছাড়া বাকি দুজনের কী অবস্থা, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চারজনের কেউ আসলে শঙ্কামুক্ত নয়। সবারই শ্বাসনালিতে সংক্রমণ হয়েছে বেশি।’
আগুন রেহাই দেয়নি মুনাদের ছয় সদস্যের পরিবারের কাউকেই। ছোটবোন সুমাইয়া সরকার গতকালই (২০) মারা গেছেন। মা সুফিয়া সরকার ও ভাই জুনায়েদ সরকারও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভর্তি হয়েছেন বাবা ইব্রাহিম সরকারও।
আশিকুজ্জামানের বাবা আবুল কাশেম খান বলেন, ‘এক মাস আগে বিয়ে হয়েছে। খালার বাসায় থেকে লেখাপড়া করে আশিকুজ্জামান। শ্বশুরের বাসায় এসেছিল বুধবার রাতে। নিচে কেমিক্যালের (রাসায়নিক) গুদামে আগুন লেগেছে শুনেছি। শুনেই বাড়ি থেকে কান্নাকাটি করে এসেছি।’